Skip to main content

Posts

Showing posts from 2019

কৃষ্ণরঙিন (২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেসবুকে পাবলিশড)

১ গভীর নিদ্রা থেকে দুম করে চোখ খুলে গেল অঞ্জনের। প্রতিদিন ঠিক এ সময়েই ঘুম ভাঙ্গে ওর। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এটা ঘটে কোনরকম তাগিদ দেয়ার আগেই, যেন অনেকটা দম দেয়া পুতুলের মত... নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যা করার করতে হবে। কিছুক্ষণ আড়মোড়া ভেঙ্গে সোজা হয়ে উঠে বসে অঞ্জন। সদ্য ঘুম ভাঙ্গার কারণে যদিয়ওবা কিছুটা স্লো মুভমেন্ট, তারপরও রুটিন মাফিক বেশ কিছু কাজ ওকে করতেই হবে... কিচ্ছু করার নেই। স্যান্ডাল জোড়া বরাবরের মত বিছানার নিচের দিকে হারিয়ে গেছে। বেশ কসরত করে সেগুলোকে উদ্ধার করে পায়ে গলিয়ে তাতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারলো অঞ্জন। আলস্যকে ঝেড়ে ফেলার প্রাণপণ চেষ্টা করতে করতে ফ্রেশ হতে এগিয়ে গেল ও। আজ ম্যালা কাজ আছে ওর। চকলেট কিনতে হবে, র‍্যাপিং করতে হবে, কার্ড বানাতে হবে... আরও কত্ত কি! হাতমুখ ধুয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে এলো ও। ভালো মতই জানে যে মা সবকিছু একদম রেডি করে রেখেছেন। ওর কাজ হচ্ছে জাস্ট একশন। আই মিন খাওয়াটা সেরে ফেলা। তারপর ব্যাগ নিয়ে সুন্দর মত বেরিয়ে যাওয়া... ইদানিং একটু আগেই বের হতে হয় অবশ্য। উন্নয়নের স্রোতের ঠ্যালায় বাসার ঠিক সামনের রাস্তা আবার কাটা কিনা! তাই রিকশা, সিএনজি কিচ্ছু পাওয়া যা...

হতাশার গল্প (২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুকে পাবলিশড)

১ কাচের টেবিলের ওপর অলস ভাবে পড়ে আছে অ্যান্টিকাটারটা। বহুল ব্যবহারে কিঞ্চিৎ জর্জরিত অবস্থা। ব্লেডেও হাল্কা মরচে ধরে আছে। দেখে মনে হচ্ছে এটা দিয়ে কোন কিছু কাটার চেয়ে বরং টিটেনাসের ভয়ই বেশি... ডাইনিং টেবিলে বক্সে রাখা ফল কাটার ছুরিটা বেশ অদ্ভুত। শক্ত প্লাস্টিকের বাট। চওড়া বাঁকানো ফলা। এটা যে বেশ ধারালো তা খালি চোখেই বোঝা যায়... গত কয়েক মিনিট ধরে অ্যান্টিকাটার আর ছুরিটার দিকে পালাক্রমে তাকাচ্ছি আমি। বোঝার চেষ্টা করছি ঠিক কোনটা দিয়ে বাম হাতের কব্জিতে প্রথম পোঁচটা দেব। আমি আবার ডানহাতি কি না... আচ্ছা, নাকি ওই উচু বিল্ডিঙটার ছাদে চলে যাব? তাতে অবশ্য প্যারা কম। জাস্ট সাহস করে একটা লাফ... এরপর উড়তে থাকো আর উড়তে থাকো... কে বাঁধা দেয় আর... পালাতে বড্ড ইচ্ছে করছে হে... আর পারি না... ২ ভ্যাপসা গরমের মাঝে একটু একটু করে নেমে আসছে সন্ধ্যা। মাগরিবের মায়াবী আজান ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। বাসার সামনের গলিতে মানুষের ইতস্তত চলাফেরা, কোলাহলের শব্দ একটু কমে এলো মনে হচ্ছে। রুদ্ধশ্বাসে দেখতে থাকা হলিউড মুভিটা এমন সময় শেষ হয়ে আসায় কান থেকে হেডফোন খুলে নিলাম আমি। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে... ...

কাছে থাকার গল্প (২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেসবুকে পাবলিশড)

১ মোবাইল অ্যালার্মের কর্কশ কিন্তু কার্যকর আওয়াজে ঘুম ভাঙল ঋভুর। তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে ইতি উতি তাকিয়ে শেষপর্যন্ত বালিশের তলা থেকে ফোনটা উদ্ধার করে অ্যালার্ম অফ করল ও। দুধসাদা হালকা সাইজের একটা লেপ গায়ের ওপর। বরাবরের মত মৌ নিশ্চয়ই লেপটা চড়িয়ে দিয়ে গেছে। কারণ ঘুমালে ঋভুর জামাকাপড়েরই ঠিক থাকে না, সেখানে এটা তো লেপ মাত্র। চোখ কচলাতে কচলাতে শেষপর্যন্ত নরম বিছানার মায়া ত্যাগ করে উঠে পড়ল ও। ঘড়ি আগেই দেখে নিয়েছে। সকাল ১০.৩০। দুইটার দিকে অফিসে সাপ্তাহিক মীটিং। বেশ খানিকটা সময় আছে হাতে। এখন আগে ফ্রেশ হতে হবে... ডাইনিং টেবিলে সুন্দর করে খাবার সাজানো। ঢেকে রাখা। পাশে ছোট্ট একটা চিরকুট। মুক্তোর মত অক্ষরে তাতে কিছু কথা লেখা – “একটা ভয়েসওভারের কাজ আছে। ওটা শেষ করে অফিসে যেতে হবে। তাই আগেই বের হয়ে গেলাম। ঠিক মত খেয়ে নিয়ো। ভালোবাসা।” চিরকুটটা হাতে নিয়ে ব্রেকফাস্ট করতে করতে প্রতিদিনকার মত করে ঋভু ভাবছে, এই মেয়েটা না থাকলে যে কি হত জীবনে !! পুরা ডিজাস্টার... ঋভু ও মৌ প্রেম করে বিয়ে করেছে এক বছরও হয়নি। নিজেদের মধ্যকার বোঝাপড়াটা বেশ ভালো। তাই সুখ শান্তি লেগে আছে ছোট্ট সংসারটায়। ঋভু একটা কর্পোরে...