১
গভীর নিদ্রা থেকে দুম করে চোখ খুলে গেল অঞ্জনের। প্রতিদিন ঠিক এ সময়েই ঘুম ভাঙ্গে ওর। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এটা ঘটে কোনরকম তাগিদ দেয়ার আগেই, যেন অনেকটা দম দেয়া পুতুলের মত... নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যা করার করতে হবে।
কিছুক্ষণ আড়মোড়া ভেঙ্গে সোজা হয়ে উঠে বসে অঞ্জন। সদ্য ঘুম ভাঙ্গার কারণে যদিয়ওবা কিছুটা স্লো মুভমেন্ট, তারপরও রুটিন মাফিক বেশ কিছু কাজ ওকে করতেই হবে... কিচ্ছু করার নেই।
স্যান্ডাল জোড়া বরাবরের মত বিছানার নিচের দিকে হারিয়ে গেছে। বেশ কসরত করে সেগুলোকে উদ্ধার করে পায়ে গলিয়ে তাতে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারলো অঞ্জন। আলস্যকে ঝেড়ে ফেলার প্রাণপণ চেষ্টা করতে করতে ফ্রেশ হতে এগিয়ে গেল ও।
আজ ম্যালা কাজ আছে ওর। চকলেট কিনতে হবে, র্যাপিং করতে হবে, কার্ড বানাতে হবে... আরও কত্ত কি!
হাতমুখ ধুয়ে ডাইনিং টেবিলে চলে এলো ও। ভালো মতই জানে যে মা সবকিছু একদম রেডি করে রেখেছেন। ওর কাজ হচ্ছে জাস্ট একশন। আই মিন খাওয়াটা সেরে ফেলা। তারপর ব্যাগ নিয়ে সুন্দর মত বেরিয়ে যাওয়া...
ইদানিং একটু আগেই বের হতে হয় অবশ্য। উন্নয়নের স্রোতের ঠ্যালায় বাসার ঠিক সামনের রাস্তা আবার কাটা কিনা! তাই রিকশা, সিএনজি কিচ্ছু পাওয়া যায় না...
বহুকষ্টে একটা সিএনজি ম্যানেজ করে ভার্সিটির দিকে রওনা হল অঞ্জন। ভার্সিটি যাওয়ার আগে একটা জায়গা হয়ে তারপর যেতে হবে ও কে। কোথায় যাবে, সেটা সিএনজিওয়ালাকে বোঝাতে বোঝাতে আরেকটু হলে প্রায় সারাদিন পার হয়ে যাচ্ছিলো। শেষে নোটবুকে লিখে এবং ম্যাপ দেখিয়ে বোঝানোয় কাজ হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সিএনজিওয়ালা এখন তুফানগতিতে ছুটে চলছে গন্তব্যের দিকে। আর পেছনে বসে লাফাচ্ছে অঞ্জন... জি না, আনন্দে না, রাস্তার ভাঙ্গার কারণে!
২
বিভিন্ন ধরণের চকলেট দিয়ে মাঝারি সাইজের একটা গিফট প্যাক বানাল অঞ্জন। রেডিমেড কার্ড কিনে তার ওপর সুন্দর করে কিছু কথা লিখে গিফটের সাথে জুড়ে দিল ও।
কিন্তু এবারের কাজটা সবচেয়ে কঠিন... মানে, সঠিক ঠিকানায় এটাকে পৌঁছে দেয়া... এবং দুর্ভাগ্যবশত এই কাজটা করতে হবে ওকেই। প্লাস নিজের হাতে।
তো বিধাতার নাম নিয়ে দুরুদুরু বুকে ভার্সিটিতে ঢুকে মৌয়ের ডিপার্টমেন্টের দিকে রওনা হল অঞ্জন।
বলে রাখি, মৌ এবং অঞ্জন আসলে সেম ব্যাচ কিন্তু ডিপার্টমেন্ট আলাদা।
অঞ্জন মৌকে হেভি ভালবাসে। কিন্তু মৌ অঞ্জনের দিকে ফিরেও তাকায় না। এদিকে মৌ ছাড়া দুনিয়ার অন্য কোন দিকে অঞ্জনের ভ্রুক্ষেপ নেই...
তারই একটা প্রমাণ আজকের এই চকলেট প্যাক।
ডিপার্টমেন্টের সামনে এসে ইতিউতি তাকাতেই মৌকে আবিস্কার করল অঞ্জন। বিশালাকার এক আড্ডার মধ্যমণি হয়ে খুব জমাচ্ছে ও। হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছে... কি কি যেন বোঝাচ্ছে... বাকিরা মনোযোগের সাথে সেটাই দেখছে এবং শুনছে...
মেয়েটার এই এক অদ্ভুত ক্ষমতা। যেখানেই যাক না কেন, সেইই হবে মধ্যমণি... বাকি সবার কেন্দ্রবিন্দু...! কমান্ডিং একটা ব্যাপার আছে ওর মধ্যে... এবং বাকিরা হাসিমুখে মেনেও নেবে সেটা! অনেকটা বলা যায় ব্যক্তিত্বের এক অমোঘ আকর্ষণ! আর এই আকর্ষণেই আলেয়ার আলোর মত করে অনেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েটার প্রেমে... এবং ধরা খায়... !
ঠিক যেমন এই মুহূর্তে ধরা খেয়ে ত্যাড়া ব্যাকা হয়ে আছে অঞ্জন... কিন্তু “কিচ্ছু করার নেই, স্বামী বিদেশ” টাইপ অবস্থা!
তো ঠিক পর্যাপ্ত সাহস সঞ্চার না করতে পেরে অঞ্জন বরাবরের মত পুরনো রাস্তায় ফিরে গেল...
মৌদের ডিপার্টমেন্টে আবার ফিক্সড ডেস্ক সিস্টেম। মানে যার যার ডেস্ক তার তার। একদম গোনা অবস্থা। অঞ্জন ভালো মতই জানে যে মৌয়ের ডেস্ক কোনটা। সো যেই জানা সেই কাজ!
ক্লাসরুমে ঢুকে মৌয়ের ডেস্কের ওপর গিফটটা সুন্দর করে রেখে এলো ও... এইবার সটকে পড়ার পালা...
শিল্পপতি বাবার এক মাত্র মেয়ে এই সামান্য গিফট আদৌ পছন্দ করবে কিনা – সেটার ভাবার আগে এটা ভাবছে অঞ্জন যে, আদৌ গিফটটা মৌ গ্রহণ করবে কিনা!
যাই হোক, যা হবার হবে। অঞ্জনের প্ল্যান ছিল যে ও গিফট করবে। সেটা করেছে। ব্যস।
এখন ব্যাপারটা কেউ যেন জানতে না পারে! ধরা পড়লে সব একদম শেষ!!
৩
- এই সামিয়া! আমার ডেস্কে এটা কি রে! কে রাখছে এইটা!
একাধারে বিরক্ত এবং কৌতূহলী সুরে পাশে দাঁড়ানো সামিয়াকে কথাটা বলল মৌ।
ও বিরক্ত, কারণ গত কিছুদিন ধরে এই উটকো ঝামেলা শুরু হয়েছে ওর চারপাশে... যেমন, হঠাৎ বাসার কলিংবেল বেজে উঠলো। দরজা খুলতেই দেখা গেল ঠিক সামনে রাখা পাপোশের ওপর সুন্দর করে র্যাপিং করা একটা বক্স – তাতে কোন না কোন একটা গিফট! আবার দেখা গেল ক্লাসে হয়ত বই অথবা নোটপ্যাড ফেলে রেখেছে ডেস্কে, হঠাৎ তার ভেতর থেকে আবিস্কার করা হল ছোট্ট কোন একটা চিরকুট – তাতে লেখা খুব গ্রস কিছু লাইন; যেমন “খুব সুন্দর লাগছে” বা “চুলটা একটু সাইডে নাও” ইত্যাদি প্রভৃতি...
ও আবার কৌতূহলীও, কারণ খুব স্বাভাবিকভাবেই যে কেউ জানতে চাইবে যে কে এই বান্দা যে কিনা সদাসর্বদা এমনভাবে একটা মানুষের খোঁজ রাখে...! তাই না?
তো আজকেও তার ব্যতিক্রম নয়...
এবং বরাবরের মত শুধু সামিয়া নয়, কেউই মৌয়ের প্রশ্নের কোন উত্তর তো দিতে পারলোই না উল্টে মজা নেয়া শুরু করল... এবং ফলশ্রুতিতে মৌ ক্লাস শেষেই সরাসরি বাসার দিকে রওনা...
ভেতরে ভেতরে একটা জিদ চেপে গেছে ওর। ওকে জানতেই হবে যে কালপ্রিটটা কে! যেভাবেই হোক, যে করেই হোক... তারপর ও বোঝাবে মজা!
বাসায় ঢুকে ধুপধাপ পা ফেলে সোজা নিজের রুমে ঢুকে পড়লো মৌ। দরজা আটকে ব্যাগটা ছুড়ে মারল টেবিলের দিকে। আর নিজে ঝাঁপিয়ে পড়লো বিছানায়। ব্যাগের বাড়ি খেয়ে পেনহোল্ডারটা নিচে পড়ে গিয়ে একাকার অবস্থা... কিন্তু এখন উঠতে ইচ্ছে করছে না মৌর। আরও কিছুক্ষণ শুয়ে থাকতে চায় ও... আগে মাথা ঠাণ্ডা, তারপর বাকিসব...
পাশে পড়ে থাকা গিফটটা তুলে নিল ও। র্যাপিংটা খুলে ফেলল যত্ন করে। এবং তারপরেই হতবাক!
ওর সবচেয়ে পছন্দের চকলেটগুলো দিয়ে পুরো বক্সটা সাজানো, আর মাঝে ছোট্ট একটা চিরকুট! তাতে লেখা –“আশা করি আমার আন্দাজ ঠিকই আছে। যদি না ঠিক থাকে তো হয় ফেলে দেবেন, নয়ত কাউকে দিয়ে দেবেন। আর যদি ঠিক হয় তো আপনার ইচ্ছে মত যা খুশি তাই করবেন... হ্যাপি চকলেট ডে!”
একটা চকলেট হাতে তুলে নিতে নিতে মৌ ভাবল, এত পরিচিত কিন্তু অপরিচিত ব্যক্তিটি আদতে কে? যে কিনা মৌ সম্পর্কে অলমোস্ট সবই জানে...!
৪
কোনরকম ঘটনা ছাড়াই কেটে গেল অঞ্জনের এত সাধের ভ্যালেন্টাইন ডে...
নিজের ওপর ওর মেজাজ চরম খারাপ ।
ঘাড়ের রগ টান খাওয়ার আর কোন দিন পেল না! ধ্যাত!
এত কষ্ট করে, এত কিছু প্ল্যান করে শেষপর্যন্ত ভ্যালেন্টাইনের মাত্র দু’দিন আগে, গভীর মনোযোগে পিসিতে একটা মুভি দেখতে দেখতে আড়মোড়া ভাঙ্গতে গিয়ে পিঠের বাম দিকে প্রথমে ক্যাত! তারপর বোল্ড!
এরপর থেকে অঞ্জনের নড়াচড়া একদম বন্ধ, খাওয়া বন্ধ, শাওয়ার নেয়া বন্ধ...
মোটকথা কোনরকম শ্বাস আর আশ! শেষে ডাক্তার দেখিয়ে টানা হাই পাওয়ারড ওষুধ খেয়ে এখন কিছুটা সুস্থ হওয়ার পথে আছে ও।
কিন্তু যা সর্বনাশ তাতো হয়েই গেছে! এত সাধের প্ল্যান তো সবই গুঁড়া সিমেন্ট হয়ে গেল!
জুম্মার নামাজ শেষে বাসায় ফিরে নিজের রুমে পায়চারী করছে অঞ্জন, আর ভাবছে। যেভাবেই হোক এই কয়েকদিনেই কাজটা সেরে ফেলতে হবে। কোনভাবেই আর দেরি করা যাবে না।
প্ল্যানে হাল্কা একটু চেঞ্জ আনলেই অবশ্য কাজটা অনেকটা সহজ হয়ে যায়... সো লেটস সি!
দ্রুত কিছু কিছু পরিবর্তন ঠিকঠাক করে ফেলল অঞ্জন। কাল থেকেই মাঠে নেমে পড়তে হবে ওকে।
এবার হয় এস্পার, নয়ত ওস্পার...
ডাইনিং টেবিলের দিকে রওনা দিল ও। খেয়েই রওনা হতে হবে নীলক্ষেত।
কারণ, ওর প্ল্যানিং অনুযায়ী যা যা দরকার, নীলক্ষেত হচ্ছে সে সমস্ত ব্যাপারের একদম আখড়া বলা যায়...
তাই আর দেরি নয়। খেয়েই বেরিয়ে পড়তে হবে। সাথে আপাতত আর কাউকে এখনও দরকার নেই। অঞ্জন একাই এনাফ।
সাথে দরকার শুধু ওর প্রিয় ছোট্ট সবুজ নোটবুকটা...
৫
অস্থির ভঙ্গিতে এই নিয়ে পঞ্চমবার ঘড়ি দেখল অঞ্জন। ইসস! বারোটা বাজে না ক্যান!
(বাই দ্য ওয়ে, এই বারোটা মানে ঘড়ির কাটার বারোটা, অবস্থার বারোটা না কিন্তু!)
যাই হোক, অঞ্জন ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নিয়ে জেনেছে যে আজ মৌদের ক্লাস বারোটায় শেষ। সো, আর দেরি করা চলবে না। কথাটা আজই বলে ফেলতে হবে।
ও অলরেডি ডিসাইডেড। এবং সে মোতাবেক সমস্ত প্রিপারেশনও ডান...
ওর ব্যাগে সবকিছু মজুত আছে... এখন শুধু জাস্ট সময়ের অপেক্ষা...
তো ঘড়ির কাটার সাথে সাথে শেষপর্যন্ত ঘনিয়ে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ...
ক্লাস শেষ। ছেলেপেলে সবাই বেরিয়ে আসছে পিলপিল করে। এবং মিছিলের মত সেই স্রোতে দূর থেকে মৌকে আবিস্কার করল অঞ্জন...
অনেকের মাঝে থেকেও মেয়েটা যেন একটু আলাদা... ব্যক্তিত্ববোধসম্পন্ন... এবং অভিজাত...
এদিকেই হেটে আসছে ও। সাথে ওর বন্ধুরা আর দুয়েকজন “পাণিপ্রার্থী”, যারা কিনা পারলে সারাক্ষণই ঘিরে রাখে মেয়েটাকে...
এদের জ্বালায় পারতপক্ষে কোন কথাই বলা যায় না।
তো যাই হোক, আজ আর এদের কোন তোয়াক্কা করবে না অঞ্জন। ওর যা দরকার, ও তাই বলবে এবং করবে...
সাহস সঞ্চার করে পায়ে পায়ে মৌয়ের দিকে এগিয়ে গেল ও। ওকে আসতে দেখে হাটার গতি কমাল ওরা। ইতিউতি তাকিয়ে নিজেদের মধ্যে নজর বিনিময় করল... ভাবটা এমন যে, কি ব্যাপার! এ আবার কি চায়!
দুরুদুরু বুকে মৌয়ের একদম সামনে গিয়ে দাঁড়ালো অঞ্জন...
মেয়েটার জিজ্ঞাসু নেত্রের দিকে তাকিয়ে পকেট থেকে একটা চিরকুট বের করে মৌয়ের দিকে বাড়িয়ে দিল ও।
কিছুটা দ্বিধান্বিত এবং একাধারে বিরক্ত চিত্তে চিরকুটটা হাতে নিয়ে প্রথমেই মৌয়ের জিজ্ঞাসা, “কি এটা?!”
কোন জবাব দিল না অঞ্জন... হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে কপালের ঘাম মুছল।
- “আরি! কি ব্যাপার... কি এটা? আচমকা সামনে এসে ধরায়া দিলা!
অঞ্জন এবারো চুপ।
- আহহা! হুদাই খেপিস ক্যান... খুলেই দ্যাখ না কাগজটা...
পাশ থেকে কে যেন কথা বলে উঠলো...
কাগজটা চোখের সামনে মেলে ধরল মৌ... এবং পড়তে শুরু করল...
ছোট্ট এক টুকরো লেখা... পড়তে বেশি সময় লাগার কথা না... কিন্তু কি একটা কারণে যেন মৌয়ের মুখের রঙ বদলে যেতে শুরু করল এবার...
ঝট করে অঞ্জনের মুখের দিকে সরাসরি তাকাল মৌ। তারপর তীব্র ভঙ্গিতে গলা চড়িয়ে বলে উঠলো, “ও! তুমিই তাইলে সেই পাবলিক! যে কিনা বাসায় চকলেট পাঠাও!... কাগজ পাঠাও!... বইয়ের মধ্যে চিঠি দাও!... ফলো কর আমাকে... !?!”
অঞ্জনের মুখ হা! যেন বন্ধ করতে ভুলে গেছে ও।
- বদমাইশ কোথাকার! এতদিন ধরে খুঁজতেছিলাম তোমাকে! এতদিন লুকাছাপা করে আজকে একদম সামনাসামনি আবার কাগজ দেয়া?! ফাইজলামি কর আমার সাথে?!
কথা শেষ করতে না করতেই অঞ্জনের গালে ঠাস ঠাস করে দুটো চড় বসিয়ে দিল মৌ!
আচমকা চড় খেয়ে বিস্ময়ে হতবাক অঞ্জন মূর্তির মত দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ... ওর কানে কোন শব্দ আসছে না এখন... মৌয়ের রুদ্র মূর্তি জাস্ট হা করে দেখছে ও... আরও অনেকক্ষণ পর সম্বিত ফিরে পেয়ে গালে হাত বোলাতে বোলাতে একসময় ওদের ঘিরে থাকা ছোট্ট ভিড়টা ঠেলে বেরিয়ে গেল ও...
অঞ্জন চলে যাওয়ার পরও আরও বেশ কিছুক্ষণ চিল্লাচিল্লি করে ঠাণ্ডা হল মৌ...
কাহিনী শেষ বুঝতে পেরে ভিড়টা পাতলা হওয়া শুরু হতেই মাটিতে পড়ে থাকা ব্যাগটা নজরে পড়লো সিভোনার। একটু ঝুকে ব্যাগটা তুলে নেয়ার সময় ভেতরে থাকা ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটা প্ল্যাকার্ডমত জিনিস পড়ে গেল রাস্তায়। আর তাই দেখে হঠাৎ একটু কৌতূহল বোধ করল মৌ... প্ল্যাকার্ডগুলোয় কি যেন লেখা... !
ওগুলো একসাথে করে হাতে তুলে নিয়ে পড়তে শুরু করল ওরা সবাই মিলে...
ওতে লেখা –
- হাই মৌ!
- প্রথমেই কান ধরে সরি বলে নিচ্ছি... আজকে কিছু ব্যাপার স্বীকার করবো তো, তাই!
- আসলে, তোমার বাসায় চকলেট দেয়া, গেটের সামনে ফুল দিয়ে আসা, বইয়ের ভেতর চিঠি... এই সমওওওস্ত কাজ আমার!
- সরি সরি সরি... অনেক বিরক্ত করেছি তোমাকে। কিন্তু বিলিভ মি... ইচ্ছা করে এই কাজগুলো করিনি আমি...
- জাস্ট সাহস করতে পারছিলাম না তোমার সাথে সামনাসামনি কথা বলার...
- ভাবছিলাম কি না কি মনে করবে তুমি... পরে দেখা গেল আরেক কাহিনী...
- এই করে করে ভ্যালেন্টাইনটাও চলে গেল...আর আমি এখনও কথাই বলতে পারলাম না...
- কিন্তু না... এইভাবে আর না
- আজ কিছুটা সাহস করেই তোমার সামনে এসে দাঁড়ালাম
- আমার কথা আমি বলব, বাকিটা তোমার ইচ্ছা
- মৌ
- ভার্সিটিতে প্রথম দেখেই তোমার ওপর ক্রাশ খেয়ে গেছি আমি
- আর দিনে দিনে সেই ক্রাশ আজকে অন্য লেভেলে...
- মৌ
- আমি
- তোমাকে
- ভা লো বা সি!
- আচ্ছা আচ্ছা... কিছু বলার আগে আরেকটা কথা বলি?
- তোমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে এমন ড্রামা কেন করছি, এটা একটা প্রশ্ন তো উঠতেই পারে তাই না?
- তুমি হয়ত জানো না, কয়েক বছর আগে একটা এক্সিডেন্টে আমার ভোকাল কর্ড মারাত্মক ড্যামেজ হয়
- তাই আমি ঠিকমত কথা বলতে পারি না। ভোকালে সমস্যার জন্য বেশিরভাগ কথা উচ্চারণ করতে পারিনা।
- মূলত বলতে পার, আমি বোবা। তাই এত নাটক, এত কাহিনী...
- এটা আমার অনেক বড় একটা সমস্যা, আমি জানি।
- কিন্তু তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি তো!
- তাই বোবা হয়েও সাহস করে এরকম লিখে লিখে বলে ফেললাম
- I Love You!
- আমার তেমন একটা বন্ধু নেই... আসলে তেমন কেউ মিশতেই তো চায় না আমার সাথে, বন্ধু হবে কিভাবে?
- আর ওদেরও দোষ দেই কিভাবে বল? বোবা মানুষ, ওরা একটা কথা জিজ্ঞেস করলে না পারি বলতে না পারি কিছু করতে...
- তাই বলতে পার একরকম একা একাই কেটে যাচ্ছে ভার্সিটি লাইফটা।
- তো এই একা লাইফে তোমাকে যদি পেতে চাই... খুব কি অপরাধ হয়ে যাবে?
- একটু কষ্ট করে এন্সার দিয়ো? ইয়েস হলে ইয়েস, নো হলে নো... কোন সমস্যা নেই...
- That’s It!
পাগলের মত এদিক ওদিক তাকাল মৌ...
কিন্তু কেউ তো নেই...
কোথাও কেউ নেই... !
Comments
Post a Comment